জামালপুরে তৃতীয় দফা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত : পানির নিচে ৯ হাজার হেক্টর ফসলি জমি

জামালপুরে তৃতীয় দফা নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত

এমরান হোসেন, জামালপুর: উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষনে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি জামালপুরে তৃতীয় দফায় অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতোমধ্যেই বন্যার পানিতে ডুবে আছে সাত উপজেলার আট পৌরসভা ও ৫৯ টি ইউনিয়ন। বন্যায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৫৪১ জন মানুষ। বন্যা দূর্গত এলাকায় আঞ্চলিক ও স্থানীয় সড়কসহ ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ। তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। যে পরিমান ত্রাণ দেয়া হচ্ছে, তা মানুষের তুলোনায় অপ্রতুল্য।

বুধবার (২১ জুলাই) হতে যমুনা, ব্রক্ষ্মপুত্র, ঝিনাই, সুবর্ণখালী, জিঞ্জিরাম, দশআনী নদনদীর পানি তৃতীয় দফায় বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ফলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি। আঞ্চলিক ও স্থানীয় সড়ক সহ রেললাইন পানিতে ডুবে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

পানিতে ডুবে গেছে বেশ কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।পানিতে তলিয়ে আছে গ্রামীণ হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সাড়ে নয় হাজার হেক্টর ফসলের জমি, গো চারন ভুমি, বসতবাড়ি। দূর্গত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। গো খাদ্যের অভাবে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা নায়েব আলী জানায়, জেলার ৮৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৭ হাজার বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার জামতলী এলাকায় একটি ব্রিজ, সরিষাবাড়ি উপজেলার ঝিনাই নদীর উপর নির্মিত ২০০ মিটার ঝিনাই ব্রিজের মাঝখানের দুইটি স্পেন তীব্র স্রোতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

এছাড়াও ১৫ হাজার বসতঘর, পানির স্রোতে ভেঙ্গে গেছে। ৬৭৭ টি গ্রামের প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার পরিবার পানিতে নিমজ্জিত। পানির নিচে তলিয়ে আছে ৪ হাজার ৬০০ টি নলকূপ ও ৫ হাজার ৫শ টি ল্যাট্রিন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে ১০০ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৫ লাখ টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলায় ত্রাণ বিতরণ  অব্যাহত রয়েছে। বন্যার্তদের খাদ্য সহায়তা পৌছে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ৩৩৩ নাম্বার হট লাইন চালু করেছেন।

Share Button

Comments

comments