লাউয়াছড়ায় সড়কের পাশে হেলে আছে অনেক গাছ ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মুখোমুখি প্রতিদিন ডেস্কঃ কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর পাহাড়ি এলাকার কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ৭ কিলোমিটার এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় হেলে আছে অনেক গাছ। চলন্ত অবস্থায় গাছ পড়ে মৃত্যুঝুঁকি থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে এ পথে চলছে সব প্রকার যানবাহন।

দুই মাস আগেও এ পথে চলন্ত একটি অটোরিকশার ওপর গাছ পড়ে দুই নারীসহ তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কপথ ঘুরে এ চিত্র পাওয়া যায়।

সম্প্রতি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ৭ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টির সময় অনেক স্থানে মাটি ধসে রাস্তার ওপর পড়ে আছে। যানবাহন চালকরা রাস্তার মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রেখেছেন।

অনেক স্থানে আবার সড়কের পাশের ছোট-বড় প্রায় ৮০ থেকে ১০০ ফুট লম্বা গাছ হেলে আছে।

আবার টানা বৃষ্টি হলে এসব গাছ সড়কের ওপর পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ি এলাকার এ সড়কপথে অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ সব প্রকার যান চলাচল রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ।

গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছ ভেঙে পড়ে যাত্রীবাহী একটি অটোরিকশার ওপর। এতে দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছিলেন।

শ্রীমঙ্গল-শমশেরনগর-কুলাউড়া সড়কপথের বাসচালক আজম মিয়া, অটোরিকশাচালক মনির মিয়া, আবদুল মালিক ও মাইক্রোবাস চালক জসিম উদ্দীন বলেন, আসলেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরের পাহাড়ি এলাকার পথটি রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ। যানবাহন চালানোর সময় সব সময় তাদের ও যাত্রীদের ভয় থাকে, কখন যানি সড়কের পাশের হেলে পড়া গাছটি গাড়ির ওপর পড়ে যায়।

কমলগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি এমএ ওয়াহিদ রুলু বলেন, বৃষ্টির পর নিয়মিত লাউয়াছড়ায় ধস নামে। আর এ ধসের সময় বড় বড় গাছও সড়কের ওপর উপড়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, বন বিভাগ যদি সড়কের পাশের হেলে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো কেটে ফেলত, তা হলে ভালো হতো।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হকও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে সড়কের পাশের হেলে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গাছের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের সহকারী বন সংরক্ষক (বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও প্রকৃতি সহব্যবস্থাপনা বিভাগ) তবিবুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে কেটে ফেলা হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় উদ্যানের ভেতরের রেলপথের ধারেও অনেক গাছ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

সুত্রঃ যুগান্তর

Share Button

Comments

comments